tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকআহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতেই যুদ্ধ বাধায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসাতেই যুদ্ধ বাধায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির সংঘাতে জড়িয়েছিল বলে দাবি উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানে গৃহবন্দি অবস্থায় থাকা আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করতে ইসরায়েলি বাহিনী বিশেষ অভিযান চালায়। এই অভিযান ছিল ইরানে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি বৃহত্তর গোপন পরিকল্পনার অংশ।

তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ইরানের অভ্যন্তর থেকেই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসা উচিত। পরে তদন্তে উঠে আসে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আহমাদিনেজাদকে কেন্দ্র করেই সম্ভাব্য পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে তিনি আহত হন এবং পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্যদের সরিয়ে তাকে মুক্ত করা। হামলায় নিরাপত্তা চৌকি ধ্বংস হলেও আহমাদিনেজাদ প্রাণে বেঁচে যান। তবে ঘটনার পর তিনি শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ান এবং এরপর থেকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সেখানে বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার যে কৌশল ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, ইরানেও একই ধরনের মডেল প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আহমাদিনেজাদের সঙ্গে খামেনির সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তিন দফা তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল করা হয় এবং তাকে পূর্ব তেহরানের নারমাক এলাকায় গৃহবন্দি রাখা হয়।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আহমাদিনেজাদ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জোরালো সমর্থক। একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর বক্তব্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ছিলেন। তাই তাকে ঘিরে এমন পরিকল্পনার খবর ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক উপদেষ্টার কাছেও অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছে।

তবে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদ ট্রাম্পের কিছু নীতির প্রশংসা করেছিলেন। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র গুয়াতেমালা ও হাঙ্গেরি সফর তার পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে নতুন জল্পনার জন্ম দেয়।

সবশেষে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দৃঢ় অবস্থানের কারণে আহমাদিনেজাদকে ঘিরে ইসরায়েলের সম্ভাব্য পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা স্থায়ীভাবে সীমিত করার দিকেই কেন্দ্রীভূত।