আমেনা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবিতে শুক্রবার সকালে নরসিংদীর মাধবদীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় নিহত আমেনার পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ ও র্যাব ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো:
- এবাদুল্লাহ (৪০), কোতোয়ালিরচর
- আহাম্মদ আলী (৬৫), বিলপাড়, মহিষাশুড়া ইউপি’র সাবেক সদস্য
- আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার
- গাফফার (৩৪), হোসেন বাজার
- ইমরান দেওয়ান (৩২)
আহাম্মদ আলী মহিষাশুড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি এবং এবাদুল্লাহ জামায়াতের কর্মী। মূল আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা এখনও পলাতক।
এ ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন, মিডিয়াকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাধবদীসহ ঢাকা ও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নরসিংদী সদর আসনের এমপি খায়রুল কবির খোকন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ আমেনা আক্তারকে কোতোয়ালিরচর এলাকায় চৈতি টেক্সটাইল মিলের পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে সহযোগীরা তাকে ধর্ষণ করে এবং কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালীরা মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে পরিবারটির ওপর চাপ প্রয়োগ করে এবং অর্থ নিলে কোনো বিচার না করে পরিবারকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আমেনার বাবা মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে গেলে নূরা ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে মহিষাশুড়া ইউনিয়নের কোতোয়ালিরচর দড়িকান্দি এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।



