ভারতের রাজধানী দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আন্দোলন মোকাবিলায় ব্যর্থতা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক আদেশে ১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা অনুরাগ কুমারকে দিল্লির নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
আন্দোলন সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগ
সরকারের মূল্যায়নে, যন্তর মন্তরে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের আমরণ অনশন এবং ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র আন্দোলন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় দিল্লি পুলিশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, পরিস্থিতি আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল, কিন্তু পুলিশ সে সক্ষমতা দেখাতে পারেনি।
এছাড়া বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) নিয়োগে স্বচ্ছতা নিয়ে অসন্তোষ ছিল কেন্দ্রের। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববর্তী কমিশনারের প্রণীত স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা পরিবর্তন করে সতীশ গোলচা নিজস্ব তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সতর্কবার্তার পরও তিনি সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনেননি।
দুর্নীতি ও অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দুর্নীতির অভিযোগও সরকারের অসন্তোষ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সিবিআইয়ের হাতে দিল্লি পুলিশের দুই পরিদর্শক গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তোলে।
এর পাশাপাশি রাজধানীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত অপরাধের ঘটনাও পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গত এপ্রিলে দিল্লি বিধানসভার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে একটি গাড়ি প্রবেশের ঘটনা, জুনে দক্ষিণ দিল্লিতে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত গ্যাংস্টারদের মাধ্যমে চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায়ও কেন্দ্রীয় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে।
এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয়বার কমিশনার পরিবর্তন
সাধারণত দিল্লির পুলিশ কমিশনারের মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর হলেও, গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার কোনো কমিশনারকে পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির পর সতীশ গোলচাকে দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কার্যালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সেখানে তিনি পরবর্তী পদায়নের অপেক্ষায় থাকবেন। অবসরের এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে দায়িত্ব ছাড়তে হলো।



