tanaka

জন্মদিনে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা, ধন্যবাদ জানালেন নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুভেচ্ছার জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের...
প্রচ্ছদজাতীয়আওয়ামী আমলের অর্থনৈতিক চিত্রের কঠোর সমালোচনা অর্থমন্ত্রীর

আওয়ামী আমলের অর্থনৈতিক চিত্রের কঠোর সমালোচনা অর্থমন্ত্রীর

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গত ১৬ বছরের অর্থনৈতিক চিত্র নিয়ে জাতীয় সংসদে কঠোর সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট ও নীতিগত ব্যর্থতার কারণে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়ে অর্থনীতির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সূচককে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় অর্থনীতি ইতিবাচক ধারায় ছিল এবং প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী ছিল, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়।

তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেমে এসেছে ৪.২২ শতাংশে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্প ও কৃষি খাতেও প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণরা কৃষিখাতে ঝুঁকছে, ফলে ছদ্ম-বেকারত্ব বাড়ছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি’ (জব-লেস গ্রোথ) হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈদেশিক মুদ্রা ও বিনিময় হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৬৭.২ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজস্ব ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। অপরিকল্পিত ও অতিমূল্যায়িত প্রকল্পের কারণে বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৪.০৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, বিনিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছ রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিল করে উন্নয়ন কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এসএমই খাতে ঋণপ্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে—যা ‘ক্রাউডিং আউট’ হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়েছে এবং অর্থ পাচার ও হুন্ডির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।