সড়ক পরিবহন আইনে চালকদের জন্য ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। প্রতি লাইসেন্সে বরাদ্দ ১২ পয়েন্ট। আইন ভাঙলেই তা কাটা হচ্ছে। সব পয়েন্ট কাটা পড়লে বাতিল হবে লাইসেন্স। সফটওয়্যার চালুর পর গত দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে পয়েন্ট হারিয়েছেন ১১ জন চালক।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০২৩ সালের এপ্রিলে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটার জন্য একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যার তৈরি করছে বলে জানায়। প্রায় তিন বছর পর গত দুই মাস আগে সে সফটওয়্যারটি চালু হয়েছে। এরপর থেকে চলছে এর প্রয়োগ।বিআরটিএ বলছে, ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে পরীক্ষামূলকভাবে পয়েন্ট কাটার কাজ শুরু হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করলে তাকে সংশ্লিষ্ট আইনে যেমন জরিমানা করা হবে, আবার পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট ওই ব্যক্তির লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটতে পারবেন। ১৩টি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কাটা যাবে এই পয়েন্ট।কোনো চালক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই বিপদে পড়বেন। দায়িত্বরত সার্জেন্ট কাটতে পারবেন পয়েন্ট। গত দুই মাসে প্রায় ৭শ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের বেশি চালকের লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে কারও এক, কারও দুই পয়েন্ট করে কাটা পড়েছে। এমনটি জানায় ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চালক ছয় মাসের মধ্যে যদি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না করেন, তাহলে চালকের আপিলের পর দুই পয়েন্ট ফেরত পেতে পারেন। টানা ছয় মাস কোনো নিয়ম না ভাঙলে আরও দুই পয়েন্ট পাবেন চালক। তবে কোনো চালক আট পয়েন্ট হারানোর পর দুই বছর পয়েন্টের জন্য আপিল করতে পারবেন না।২ মাসে যে সব কারণে পয়েন্ট কাটা হয়েছে
ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে উল্টোপথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, অবৈধ পার্কিং ও বাম লেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মতো অপরাধের জন্য এসব পয়েন্ট কাটা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান
যেভাবে পয়েন্ট কাটা হচ্ছে
কোনো চালক গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ট্রাফিক পুলিশ ওই গাড়ি থামাবেন। তিনি চালকের লাইসেন্স সংক্রান্ত সব তথ্য যাচাই করে দেখবেন। নতুন করা মামলার তথ্য চলে যাবে বিআরটিএর কাছে। বিআরটিএ ওই চালক কত পয়েন্ট খোয়ালেন, সে তথ্য সংরক্ষণ করবে।



