tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদঅন্যান্যঅবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেয়ার চিন্তা

অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেয়ার চিন্তা

অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারিতে যেখানে তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন—যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকেই পুনরায় ভর্তি করানোর চিন্তা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাতার সরকারের সঙ্গে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বিমানে ভ্রমণের উপযোগী মাত্রায় স্থিতিশীল হলেই লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র মানবজমিনকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার দুপুরে মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন,
“দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজ যেন পুরো বাংলাদেশের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তার চিকিৎসা দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে। লন্ডন থেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারেক রহমান এবং তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। অনেকেই হয়তো জানেন না, মেডিকেল বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জুবাইদা। মমতাময়ী মায়ের চিকিৎসায় কোনো বিলম্ব বা সীমাবদ্ধতা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠভাবে তদারকি করছেন তারেক রহমান। এদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ হাসপাতালে গেলেও ইনফেকশনের ঝুঁকির কারণে সিসিইউতে প্রবেশের অনুমতি নেই। দূর থেকেই মানুষ তাদের ভালোবাসা ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।”

তিনি আরও জানান,
“দেশবাসীর দোয়া ও ভালোবাসায় আপসহীন নেত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জিয়া পরিবার। চলতি বছর লন্ডনের যে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের অধীনে চার মাস চিকিৎসা নিয়ে তিনি বেশ সুস্থ হয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা। সেই উদ্দেশ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।”

মাহদী আমিন আরও লেখেন,
“বাংলাদেশের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ইনশাআল্লাহ দ্রুত উন্নতি হবে। আধুনিক চিকিৎসা শেষে তিনি সন্তান-স্বজনসহ মুক্ত মাতৃভূমির মানুষকে আবারও অনুপ্রাণিত করবেন, জাতির অভিভাবক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন—দেশবাসীর প্রত্যাশা আজ এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই।”

উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি তিনি তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি এবং অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাসের চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পাশে রয়েছেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও ছোট ভাই শামীম এসকান্দার। বহু বছর ধরেই তিনি আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর তিনি এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছর কারাগারে থাকার সময় নানা রোগে আক্রান্ত হন তিনি। মুক্তির পরও তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।