tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদজাতীয়সেন্টমার্টিনে রাতে থাকার সুযোগ: মানতে হবে ১২ শর্ত

সেন্টমার্টিনে রাতে থাকার সুযোগ: মানতে হবে ১২ শর্ত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হচ্ছে। এবারের মৌসুমে রাত্রিযাপনের সুবিধাও থাকছে, তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন এবং মানতে হবে সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা।

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ ছেড়ে যাবে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসবে। এই সুবিধা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানান, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন—এই চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তিনি বলেন, দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নিরাপত্তার কারণে টেকনাফ নয়, বরং এবার কক্সবাজার শহর থেকেই পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করবে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, রাত্রিযাপনের অনুমতি না থাকায় নভেম্বর মাসে পর্যটক আকর্ষণ কমে গিয়েছিল। ফলে জাহাজ চলাচলও বন্ধ ছিল। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাতযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে, তাই ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় জাহাজ চলাচল শুরু হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটককে অনুমতি দেওয়া হবে না। এজন্য নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট ও সেন্টমার্টিন উভয় স্থানে কঠোর তল্লাশি থাকবে।

প্রজ্ঞাপনের প্রধান নির্দেশনা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী—

  • বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান দ্বীপে যেতে পারবে না।
  • টিকিট অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে কিনতে হবে।
  • প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকতে হবে; কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
  • নভেম্বর: শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ; রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
  • ডিসেম্বর–জানুয়ারি: রাত্রিযাপনের অনুমতি।
  • ফেব্রুয়ারি: দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ।
  • প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যটক ভ্রমণ করতে পারবেন।

দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

  • রাতে সমুদ্র সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।
  • কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ/বিক্রয় নিষিদ্ধ।
  • সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক–ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যে কোনো ধরনের ক্ষতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  • সৈকতে মোটরসাইকেল, সি–বাইকসহ সবধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ।
  • পলিথিন বহন নিষিদ্ধ এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান–শ্যাম্পু, ৫০০/১০০০ মিলি প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) ব্যবহার নিরুৎসাহিত।
  • নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক বহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর আশা, নতুন বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি হয়ে উঠবে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।