অন্তর্বর্তী সরকার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির বৈঠকের সুযোগ দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি বলেন, “গত বছর ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পাইনি। তখনকার সরকার রাষ্ট্রপতিকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছিল। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এই ঐতিহ্য আবার চালু করায় আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
রোববার (৩ মে) রাতে বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আগত ডিসিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “আমি বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)সহ মুক্তিযুদ্ধের সব বীর সেনানী, সংগঠক ও জাতীয় নেতৃবৃন্দকে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি দেশের উন্নয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ফলে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের অনিয়ম ও অপশাসনের পর জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই একটি স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জনসেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ সফল করতে জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন ও দায়িত্ব পালনের জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রশংসা করেন তিনি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় অবৈধ মজুদ রোধ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতি উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের সব স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।



