১. বাতিল করা অধ্যাদেশ:
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই চারটি অধ্যাদেশের অধীনে কার্যক্রম সংসদে বিল আকারে পুনরায় তোলার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাতিলকৃত অধ্যাদেশগুলো হলো:
- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ
- সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ
- সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ
জামায়াতের তিন সদস্য এই অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তারা বিশেষ করে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশকে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
২. এখনই বিল আকারে উত্থাপন হচ্ছে না ১৬টি অধ্যাদেশ:
এই অধ্যাদেশগুলো এখনই সংসদে বিল আকারে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে না। এর ফলে কার্যকারিতা মূলত হারাতে যাচ্ছে।
বেশিরভাগ অধ্যাদেশে জামায়াতের তিন সদস্য নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলো:
- গণভোট অধ্যাদেশ
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ
- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ও সংশোধন
- দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ
- তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ
- কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ
গণভোট অধ্যাদেশের অনুমোদন না পাওয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলও আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
৩. সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য ১৫টি অধ্যাদেশ:
বিশেষ কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। তবে সংশোধনীর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অধ্যাদেশগুলো হলো:
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ
- সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ
- কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)
- জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ
- বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ
- পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ
- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ
- ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ
- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ
সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
৪. হুবহু অনুমোদনের জন্য ৯৮টি অধ্যাদেশ:
বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে কিছু অধ্যাদেশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত এবং স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত। উদাহরণস্বরূপ:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)
- বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪
- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ
- চারটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং হেফাজতের জন্য বিল আকারে উত্থাপন।
- ১৬টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
- ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপন।
- ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদনের জন্য সুপারিশ।
এই সুপারিশের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সংস্কারের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।



