tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের কোনগুলো বাদ কোনগুলো থাকছে

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের কোনগুলো বাদ কোনগুলো থাকছে

১. বাতিল করা অধ্যাদেশ:
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই চারটি অধ্যাদেশের অধীনে কার্যক্রম সংসদে বিল আকারে পুনরায় তোলার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। বাতিলকৃত অধ্যাদেশগুলো হলো:

  • জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ
  • সুপ্রিমকোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ
  • সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ
  • সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ

জামায়াতের তিন সদস্য এই অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। তারা বিশেষ করে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশকে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।


২. এখনই বিল আকারে উত্থাপন হচ্ছে না ১৬টি অধ্যাদেশ:
এই অধ্যাদেশগুলো এখনই সংসদে বিল আকারে অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে না। এর ফলে কার্যকারিতা মূলত হারাতে যাচ্ছে।
বেশিরভাগ অধ্যাদেশে জামায়াতের তিন সদস্য নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলো:

  • গণভোট অধ্যাদেশ
  • জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ
  • গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ও সংশোধন
  • দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ
  • তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ

গণভোট অধ্যাদেশের অনুমোদন না পাওয়ায় ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলও আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।


৩. সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের জন্য ১৫টি অধ্যাদেশ:
বিশেষ কমিটি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। তবে সংশোধনীর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অধ্যাদেশগুলো হলো:

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ
  • সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ
  • কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট)
  • জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ
  • বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ
  • পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ
  • ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ
  • ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ
  • বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ

সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


৪. হুবহু অনুমোদনের জন্য ৯৮টি অধ্যাদেশ:
বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে কিছু অধ্যাদেশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত এবং স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত। উদাহরণস্বরূপ:

  • গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)
  • বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামেন্ডমেন্ট অর্ডিন্যান্স ২০২৪
  • বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ
  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ
  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ

  • চারটি অধ্যাদেশ বাতিল এবং হেফাজতের জন্য বিল আকারে উত্থাপন।
  • ১৬টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
  • ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপন।
  • ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু অনুমোদনের জন্য সুপারিশ।

এই সুপারিশের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন ও সংস্কারের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।