ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী বলেন, “সব প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে এলে ভোটের মাধ্যমে আনন্দ পাবো।” যাত্রাবাড়ী–ডেমরা অঞ্চলে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি সুপরিচিত মুখ। সাবেক কাউন্সিলর নবীউল্লাহ নবী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণা, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। কথা বলেছেন জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাসুদ রানার সঙ্গে।
দলীয় প্রার্থীতা নিয়ে নবীউল্লাহ নবী বলেন:
বিএনপি একটি বড় দল। স্বাভাবিকভাবেই অনেকে প্রার্থী হতে চান। কেউ কেউ আবার মজার ছলে ব্যানার-ফেস্টুনও লাগান। আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন—‘এক পরিবার, এক প্রার্থী।’ তবে কিছু ব্যক্তি তারেক রহমান সাহেবের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দুষ্টামি করছেন, যার কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতা না থাকলে নির্বাচন সুন্দর হয় না। আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জনগণের মাঝে কাজ করছি। গণসংযোগ, মতবিনিময় ও প্রচারণা চালাচ্ছি। দল থেকেও ইতোমধ্যে আমাকে মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইতে বলা হয়েছে।”
নির্বাচনী সাড়া প্রসঙ্গে নবীউল্লাহ নবী বলেন:
“আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দুই ঘণ্টার ভোটে ৬৯ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। এবার যদি লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি হয়, তাহলে আমি অন্তত তিন লাখ ভোট পেয়ে জয়ী হবো বলে আশা করছি।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন:
“বিএনপি সব সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এবার আমরা আশা করি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে নবীউল্লাহ নবী বলেন:
“ঢাকা-৫ আসনটি রাজধানীর প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের মানুষ এই এলাকা দিয়েই চলাচল করেন। অথচ এখানে নেই কোনো সৌন্দর্য, উন্নয়ন কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি কলেজ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় নেই, কমিউনিটি সেন্টার নেই, শিশুপার্ক বা খেলার মাঠ পর্যন্ত নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা নাজুক, জলাবদ্ধতা এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমরা নিয়মিত ট্যাক্স ও রাজস্ব দিই, কিন্তু নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকি।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ। স্বাধীনতার পর ডিএনডি বাঁধ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো এমপি কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পর কিছু কাজ শুরু হলেও তা যথেষ্ট নয়। এখানে ব্যাপক সারফেস ড্রেন তৈরি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম নিতে হবে।”



