ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল নিয়ে ভারতে পৌঁছেছেন, যার মূল লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। এ সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নই এই সফরের কেন্দ্রবিন্দু। তবে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভিসা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি এই সফরের আলোচ্য বিষয় নয়।
বাণিজ্য, না-ভিসা
বুধবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার তার দুই দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন। সফরে তিনি এমন এক প্রতিনিধি দল সঙ্গে এনেছেন, যারা চলতি বছরের মে মাসে সম্পন্ন ও জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত এবং আগামী বছর কার্যকর হতে যাওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
ভিসা প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, অতীতে ভিসা ইস্যু বাণিজ্য আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও এবার তেমনটি নয়। তার ভাষায়, “এটি আমাদের পরিকল্পনার অংশ নয়। আমরা যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি করেছি, তার সুফল নিশ্চিত করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এই চুক্তির সুযোগ নিচ্ছে। তবে বিষয়টি ভিসা নিয়ে নয়।”
অভিবাসন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ে জনমনে উদ্বেগ এবং পপুলিস্ট রিফর্ম ইউকে পার্টির উত্থানের প্রেক্ষাপটে স্টারমার কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এমন প্রেক্ষাপটে, এই সফরে ভিসা ইস্যু আলোচনা থেকে একরকম দূরেই থাকছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়ানোর পর ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য ব্রিটেন ভিসা দেবে কি না—এই প্রশ্নে স্টারমার বলেন, “এই সফরের আলোচনায় ভিসা বিষয়টি নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ব্রিটেন বিশ্বের “শীর্ষ মেধাবীদের” আকৃষ্ট করতে চায়।
প্রত্যাবর্তন চুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যেসব দেশ তাদের অপরাধী বা ফেরত পাঠানোর উপযুক্ত নাগরিকদের গ্রহণ করে না, তাদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্টারমার বলেন, ভারতের ক্ষেত্রে এটা কোনো সমস্যা নয়, কারণ দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যেই একটি প্রত্যাবর্তন চুক্তি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, “আমরা খতিয়ে দেখছি—ভিসা ও প্রত্যাবর্তন চুক্তির মধ্যে কোনো সংযোগ থাকা উচিত কি না।”



