ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন পেসার হিসেবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সী গুরনুর ব্রার। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মাত্র ১১ ম্যাচ খেলেই তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে ২১ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে চলতি সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে ইতোমধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন এই তরুণ। তাঁর পারফরম্যান্সে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ভারতের বোলিং পরিকল্পনায়ও তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সাত উইকেট নিয়েছেন গুরনুর। ১০.৫৭ গড় নিয়ে এখন পর্যন্ত সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। তাঁর গতি ও বাউন্স সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে কিউই ব্যাটারদের।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বিশেষভাবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই ভারতীয় পেসার। বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত ম্যাচটি ডিএলএস পদ্ধতিতে মাত্র চার রানে জেতে ভারত। দলের এই নাটকীয় জয়ে বড় অবদান ছিল গুরনুরের। ৩০ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে ভারতীয় বোলারদের সেরা বোলিংয়ের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
এই তালিকায় তাঁর ওপরে রয়েছেন ভারতের দুই সাবেক তারকা বোলার। ১৯৯৪ সালে ওয়েলিংটনে ৩৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন অনিল কুম্বলে। আর ২০০২ সালে অকল্যান্ডে ২৩ রানে চার উইকেট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন জাভাগাল শ্রীনাথ।
তবে গুরনুরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা খুব একটা ধারাবাহিক ছিল না। শুরুতে ভালো করলেও মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত রান দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে তাঁর বোলিংয়ে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাত উইকেট নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে পেয়েছেন চার উইকেট।
এরপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে কঠিন সময় পার করতে হয় তাঁকে। তিন ম্যাচে মাত্র তিনটি উইকেট পেলেও রান খরচের পরিমাণ ছিল বেশ বেশি। গুয়াহাটিতে ৯৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন গুরনুর। তিরুবনন্তপুরমে কোনো উইকেট না পেলেও খরচ করেন ৬০ রান। আর মুল্লানপুরে ৬৪ রান দিয়ে পান মাত্র একটি উইকেট।
ওই সিরিজে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাছে বারবার মার খেয়ে হতাশ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন গুরনুর। তবে সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে নতুন উদ্যমে ফিরেছেন তিনি। পেস ও বাউন্স সহায়ক কন্ডিশনে নিজের বোলিংয়ের কার্যকারিতা দেখাচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে।
কঠিন সময়েও দলের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছেন এই পেসার। বিশেষ করে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুবমান গিলের আস্থা তাঁকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সহায়তা করেছে। দলের ইতিবাচক পরিবেশ এবং কোচের পরামর্শ নিজের খেলায় উন্নতি আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গুরনুরের মতে, খারাপ সময়েও একজন ক্রিকেটারের পাশে দলের থাকা অত্যন্ত জরুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বোলিং করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। সে সময় কোচ তাঁকে নির্দিষ্ট লেংথ বজায় রাখার পরামর্শ দেন।
নিউজিল্যান্ড সফরেও একই নির্দেশনা পেয়েছেন গুরনুর। নিজের শক্তির জায়গার ওপর ভরসা রেখে নির্ভয়ে বোলিং চালিয়ে যেতে বলেছেন গম্ভীর। কোচের এই সমর্থন তরুণ পেসারের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করেছে।



