বাজারে কয়েক মাস পর চালের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সবজি, পেঁয়াজ ও মাছের দাম এখনো ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে মিশ্র চিত্র বিরাজ করছে।
চালের বাজারে সামান্য স্বস্তি
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে সরু নাজিরশাইল ও মোটা চাল আমদানির কারণে এসব চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জনপ্রিয় মিনিকেট চালের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।
সবজির দাম কিছুটা কমলেও স্বস্তিকর নয়
বাজারে কিছু কিছু সবজির দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগে এসব পণ্যের দাম ৮০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছিল।
বর্তমানে বাজারে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়; করলা, বেগুন, বরবটি ও চিচিঙ্গার কেজি ৮০-১০০ টাকা। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে পেঁপে ও আলুতে, যেগুলো বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৪০ এবং ৩০ টাকা কেজিতে।
পেঁয়াজের দাম সামান্য কমেছে
পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো অনেকের নাগালের বাইরে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ৫-১০ টাকা কম। তবে পাড়া-মহল্লায় এর দাম আরও কিছুটা বেশি।
মাছের বাজার এখনো অস্থির
মাছের বাজারে চড়া দাম বজায় রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, চাষের মাছের সরবরাহ কম থাকায় নদীর মাছের ওপর চাপ বেড়েছে, ফলে দামও বেড়েছে।
বর্তমানে ৭০০ গ্রাম ওজনের একহালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকায়। এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকানো হচ্ছে প্রতি পিস ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। মাঝারি আকারের মাছ (৪০০-৫০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়।
চাষের চিংড়ির দাম উঠেছে ৭৫০-৮০০ টাকা, আর নদীর চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকা কেজি দরে। স্বাভাবিক সময়ে এসব মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা কম ছিল।
কই, শিং, শোল, ট্যাংরা ও পুঁটির দামও বেড়েছে। চাষের রুই, কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ২০০-২৫০ টাকা কেজি দরে।
অপরিবর্তিত মুরগি ও ডিমের দাম
মুরগি ও ডিমের বাজারে এখনো বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসেনি। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকা কেজি, আর সোনালি জাতের মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা। ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৩৫-১৪০ টাকায়।
চালের দামে স্বস্তি এলেও সামগ্রিকভাবে ভোক্তাদের ভোগান্তি কমেনি। সবজি ও মাছের উচ্চমূল্য এখনও বড় চাপ হিসেবে থাকছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য।



