tanaka
প্রচ্ছদখেলাআন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা ১০ উইকেটশিকারি বোলার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা ১০ উইকেটশিকারি বোলার

ক্রিকেটের ইতিহাসে ব্যাটসম্যানদের মতো বোলারদের কীর্তিও সমানভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার করে অনেক বোলার নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট—তিন ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শিকার ১ হাজার ৩৪৭ উইকেট। তাঁর ধারেকাছে নেই অন্য কোনো বোলার।

চলুন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া ১০ বোলারের কীর্তি জেনে নেওয়া যাক।

১. মুত্তিয়া মুরালিধরন (শ্রীলঙ্কা) — ১,৩৪৭ উইকেট

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মুরালিধরন। টেস্টে ৮০০, ওয়ানডেতে ৫৩৪ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৩ উইকেট নিয়েছেন এই অফ স্পিনার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও বৈচিত্র্যময় স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বারবার পরাস্ত করেছেন তিনি।

২. শেন ওয়ার্ন (অস্ট্রেলিয়া) — ১,০০১ উইকেট

লেগ স্পিনের অন্যতম সেরা শিল্পী শেন ওয়ার্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক হাজার উইকেটের মাইলফলক অতিক্রম করেছিলেন। তাঁর শিকার টেস্টে ৭০৮ ও ওয়ানডেতে ২৯৩ উইকেট। স্পিন বোলিংকে নতুন মাত্রা দেওয়া এই অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী বোলার।

৩. জেমস অ্যান্ডারসন (ইংল্যান্ড) — ৯৯১ উইকেট

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। তাঁর আন্তর্জাতিক উইকেটসংখ্যা ৯৯১। এর মধ্যে টেস্টে ৭০৪, ওয়ানডেতে ২৬৯ ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৮ উইকেট রয়েছে। সুইং বোলিংয়ে অসাধারণ দক্ষতা এবং দীর্ঘদিন সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার সক্ষমতা তাঁকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

৪. অনিল কুম্বলে (ভারত) — ৯৫৬ উইকেট

ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা বোলার অনিল কুম্বলে। টেস্টে ৬১৯ এবং ওয়ানডেতে ৩৩৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। নিয়ন্ত্রিত বোলিং, ধারাবাহিকতা ও লেগ স্পিনের কার্যকর ব্যবহারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন এই কিংবদন্তি।

৫. গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া) — ৯৪৯ উইকেট

নিখুঁত লাইন-লেংথ ও ধারাবাহিকতার জন্য বিখ্যাত গ্লেন ম্যাকগ্রা। টেস্টে ৫৬৩, ওয়ানডেতে ৩৮১ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার একাধিক বিশ্বকাপজয়ী দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই পেসার।

৬. ওয়াসিম আকরাম (পাকিস্তান) — ৯১৬ উইকেট

সুইং বোলিংয়ের অন্যতম কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। টেস্টে ৪১৪ ও ওয়ানডেতে ৫০২ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। বিশেষ করে রিভার্স সুইংয়ে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁকে অনন্য পরিচিতি এনে দেয়।

৭. স্টুয়ার্ট ব্রড (ইংল্যান্ড) — ৮৪৭ উইকেট

ইংল্যান্ডের সাবেক পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তাঁর শিকার টেস্টে ৬০৪, ওয়ানডেতে ১৭৮ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৫ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়ার সামর্থ্যের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।

৮. শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা) — ৮২৯ উইকেট

নিয়ন্ত্রিত পেস বোলিং ও কার্যকর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত শন পোলক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর উইকেটসংখ্যা ৮২৯। এর মধ্যে টেস্টে ৪২১, ওয়ানডেতে ৩৯৩ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ উইকেট রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সফল এই অলরাউন্ডার।

৯. ওয়াকার ইউনিস (পাকিস্তান) — ৭৮৯ উইকেট

দ্রুতগতির বোলিং ও বিধ্বংসী ইয়র্কারের জন্য বিখ্যাত ওয়াকার ইউনিস। টেস্টে ৩৭৩ এবং ওয়ানডেতে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসারদের অন্যতম এই বোলার ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিলেন বড় চ্যালেঞ্জ।

১০. টিম সাউদি (নিউজিল্যান্ড) — ৭৭৬ উইকেট

নিউজিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদি তিন ফরম্যাটেই কার্যকর বোলিং করেছেন। তাঁর আন্তর্জাতিক উইকেটসংখ্যা ৭৭৬। এর মধ্যে টেস্টে ৩৯১, ওয়ানডেতে ২২১ এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬৪ উইকেট রয়েছে। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন বলের সুইং ও বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি।

মুরালিধরনের রেকর্ড কি ভাঙা সম্ভব?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুরালিধরনের ১ হাজার ৩৪৭ উইকেটের রেকর্ড এখনো অন্য সব বোলারের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা শেন ওয়ার্নের উইকেটসংখ্যা ১ হাজার ১। অর্থাৎ, প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানের ব্যবধান ৩৪৬ উইকেট।

এই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে সফল হওয়ার সামর্থ্য। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পরিবর্তিত চাহিদার মধ্যেও নিয়মিত উইকেট শিকার করে মুরালিধরন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক অনন্য মানদণ্ড স্থাপন করেছেন।

ভবিষ্যতে কেউ এই রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে মুরালিধরনের এই কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘদিন বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে আলোচিত হবে।