tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশজিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, সাময়িক বরখাস্ত ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী

জিপিএফের প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, সাময়িক বরখাস্ত ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সময়ে ওই কার্যালয়ে কর্মরত চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থ নিয়ে জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশ জারি করে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, ছয়জনের বিরুদ্ধে মোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযুক্ত চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন—

  • মীর এনামুল হক: মোরেলগঞ্জে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি রামপাল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • সৌমেন সরকার: মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় জিপিএফের ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন।

  • মদন কুমার দাস: মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার হিসেবে কর্মরত।

  • হাসানুজ্জামান: মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত।

দুই অডিটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো—

  • শ্যামল কুমার দাস: ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি বাগেরহাটের মোংলায় কর্মরত ছিলেন।

  • রুবেল মোল্লা: ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে জিপিএফের ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের সময় তিনি বাগেরহাটের শরণখোলায় কর্মরত ছিলেন।

যেভাবে ধরা পড়ে জালিয়াতির ঘটনা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাই করতে খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তে ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মোরেলগঞ্জের কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে তাঁদের হিসাবের সঙ্গে গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি নজরে আসার পর মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী জিপিএফ হিসাব যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি দেন। এরপরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, জিপিএফের অর্থের এসব লেনদেন সম্পর্কে তাঁরা আগে কিছুই জানতেন না। ঋণ নেওয়ার সময় হিসাব যাচাই করতে গিয়ে তাঁরা গরমিল দেখতে পান। কোনো কোনো শিক্ষকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তাঁরা জানান।

বরখাস্তের আদেশে যা বলা হয়েছে

অফিস আদেশ অনুযায়ী, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে অভিযুক্তরা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাঁরা স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না। তদন্তের প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাঁদের উপস্থিত হতে হবে।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা ডিডিসিএ তামান্না ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।