tanaka
প্রচ্ছদশিক্ষাঙ্গনসাক্ষাৎকারে যে ১০ ভুলে হাতছাড়া হতে পারে চাকরি

সাক্ষাৎকারে যে ১০ ভুলে হাতছাড়া হতে পারে চাকরি

জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্র দেখে কোনো প্রতিষ্ঠান যখন আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকে, তখন ধরে নেওয়া যায় যে প্রাথমিক বাছাইয়ে আপনি নিয়োগদাতার নজরে এসেছেন। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সাক্ষাৎকারে নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা যথাযথভাবে তুলে ধরা।

তবে অনেক সময় যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরাও নার্ভাস হয়ে সাক্ষাৎকারে কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলেন। এসব ছোটখাটো ভুলও চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগে থেকেই সম্ভাব্য ভুলগুলো সম্পর্কে জানা এবং সেগুলো এড়িয়ে চলার প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

১. প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা না থাকা

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, সাক্ষাৎকারের আগে সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ‘আমাদের সম্পর্কে’ অংশ, লক্ষ্য, কার্যক্রম, পণ্য বা সেবা এবং বাজারের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা রাখুন। প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিযোগীদের সম্পর্কেও প্রাথমিক ধারণা থাকলে তা কাজে আসতে পারে।

২. দেরি করে পৌঁছানো

সাক্ষাৎকারে কয়েক মিনিট দেরি করাও আপনার সময়নিষ্ঠতা নিয়ে নিয়োগদাতার মনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখে বের হওয়া ভালো। সম্ভব হলে আগেই সাক্ষাৎকারের স্থান দেখে নিন এবং সেখানে যেতে কত সময় লাগে, তা জেনে রাখুন।

৩. অনুপযুক্ত পোশাক পরা

সাক্ষাৎকারে পোশাকও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মীদের অনানুষ্ঠানিক পোশাকের সুযোগ থাকলেও সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে পরিপাটি ও পেশাদার পোশাক পরাই নিরাপদ। আগেই পোশাক ঠিক করে পরিষ্কার ও ইস্ত্রি করে রাখুন।

৪. অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকা

সাক্ষাৎকারের সময় মোবাইল ফোন, চুইংগাম বা অন্য কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যস্ত থাকা এড়িয়ে চলুন। ফোনটি সাইলেন্ট করে রাখুন এবং সাক্ষাৎকারের টেবিলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস না রাখাই ভালো।

৫. শারীরিক ভাষায় ভুল করা

চোখে চোখ রেখে কথা বলা, সোজা হয়ে বসা, স্বাভাবিক হাসি এবং আত্মবিশ্বাসী আচরণ সাক্ষাৎকারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঢিলেঢালা হয়ে বসা, বারবার অস্থিরভাবে নড়াচড়া করা বা অস্বস্তিকর অঙ্গভঙ্গি এড়িয়ে চলুন।

৬. অস্পষ্টভাবে কথা বলা

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে ভাবুন। খুব দ্রুত কথা বলা, অস্পষ্টভাবে উত্তর দেওয়া বা বারবার থেমে যাওয়া আপনার বক্তব্যকে দুর্বল করে দিতে পারে। এমনভাবে কথা বলুন, যাতে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সহজেই আপনার উত্তর বুঝতে পারেন।

৭. সাবেক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা

বর্তমান বা সাবেক নিয়োগদাতা সম্পর্কে অভিযোগ বা নেতিবাচক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন। আগের কর্মস্থলে কোনো সমস্যা থাকলেও তা তুলে ধরার সময় পেশাদার অবস্থান বজায় রাখুন। সাবেক প্রতিষ্ঠান বা সহকর্মীদের সম্পর্কে অতিরিক্ত সমালোচনা আপনার ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৮. প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েও কিছু না জিজ্ঞেস করা

সাক্ষাৎকারের শেষে নিয়োগদাতা যদি প্রশ্ন করার সুযোগ দেন, তা কাজে লাগান। চাকরির দায়িত্ব, দলের কাজের ধরন, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা বা পদের লক্ষ্য নিয়ে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে পারেন। এতে পদের বিষয়ে আপনার আগ্রহ ও প্রস্তুতির বিষয়টি প্রকাশ পেতে পারে।

৯. জীবনবৃত্তান্তে মিথ্যা তথ্য দেওয়া

জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া যেকোনো তথ্য সাক্ষাৎকারে যাচাই বা বিস্তারিত জানতে চাওয়া হতে পারে। তাই কাজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা বা অন্য কোনো বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া উচিত নয়। পরে তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়লে পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১০. অতিরিক্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে চলে যাওয়া

চাকরিটি কেন আপনার খুব প্রয়োজন, ব্যক্তিগত ঋণ বা পারিবারিক সমস্যার মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না করাই ভালো। একইভাবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী বা অতি ঘনিষ্ঠ আচরণও এড়িয়ে চলুন। সাক্ষাৎকারে মূলত আপনার যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়গুলোতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরও কিছু বিষয় মাথায় রাখুন

সাক্ষাৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি কয়েকটি অতিরিক্ত জীবনবৃত্তান্ত সঙ্গে রাখতে পারেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর সংখ্যা আগে থেকে নিশ্চিত না থাকলে এটি কাজে আসতে পারে।

সাক্ষাৎকারের কক্ষে গিয়ে আপনাকে বসতে বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বসার পর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সোজা হয়ে থাকুন এবং অস্বস্তিকর ভঙ্গি এড়িয়ে চলুন।

এ ছাড়া সাক্ষাৎকারের শুরুতেই বেতন, ছুটি বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু না করাই ভালো। পদের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার পর এসব বিষয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় আসে।

সাক্ষাৎকারে ভুল হয়ে গেলে কী করবেন?

সাক্ষাৎকারে কোনো ভুল হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করুন। দেরি হলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে সংক্ষেপে কারণ জানাতে পারেন। কোনো প্রশ্নের উত্তর ভুল হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করুন এবং পরবর্তী প্রশ্নে মনোযোগ দিন।

সাক্ষাৎকার শেষে নিয়োগদাতাকে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানোও ভালো অভ্যাস। সাক্ষাৎকার আশানুরূপ না হলেও একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা বা ই-মেইলের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি ভুলকে চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবে নেওয়া। প্রস্তুতি, পেশাদার আচরণ এবং নিজের যোগ্যতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে পরবর্তীবার আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া সম্ভব।