tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশলালপুরে পদ্মার পানি বাড়ছে, প্লাবিত ১৫ চরাঞ্চল

লালপুরে পদ্মার পানি বাড়ছে, প্লাবিত ১৫ চরাঞ্চল

  1. নাটোরের লালপুরে কয়েক দিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। পাশাপাশি নদীভাঙনে শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে এবং অনেক বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।

    নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৬ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    স্থানীয়রা জানান, উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে গত কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি বাড়ছে। এতে লালপুর, ঈশ্বরদী ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে গো-খাদ্যের সংকটে বিপাকে পড়েছেন গরু-মহিষের খামারিরাও।

    উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পানিতে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর আখ, ৭ হেক্টর সবজি ও ৬০ হেক্টর ফলের বাগান রয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। বাঁশের মাচায় থাকা সবজিখেতের কেবল কিছু অংশ পানির ওপরে দেখা যাচ্ছে। নতুন রোপণ করা মুলা ও বেগুনের গাছও অনেক জায়গায় তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা নৌকা ও ভেলায় করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করলেও পানির স্রোতের কারণে তা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে তার চার বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পানির নিচে চলে গেছে। পানি আরও বাড়লে আরও তিন বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

    ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারির চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চল ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে মহিষগুলোকে শুকনো ধানের খড় ও পানি খাওয়াতে হচ্ছে।

    পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ৫০টি বসতঘর ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

    লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

    লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন জানান, উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বসতভিটাহারা ৩০ পরিবারের মধ্যে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।