পরিবারের উদ্দেশে আবেগঘন একটি চিরকুট রেখে ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম (১৬), যিনি ইসমাইল নামেও পরিচিত। তাকে উদ্ধারে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রেজিস্ট্রেশন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আরিফুল আর ফেরেনি। এরপর স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ছেলের সন্ধান চেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেন তার বাবা মো. সামছুল ইসলাম।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আরিফুলের সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিল। পরে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে একটি চিরকুট তাদের হাতে আসে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে নিজের অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি তাকে আর খোঁজ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিরকুটের শুরুতে ইংরেজিতে পরিবারের উদ্দেশে লেখা হয়, ‘My Dare Family. I hope everybody will happy. Because I’m not at home. Please don’t be unhappy. Enjoy it.’ এরপর বাংলায় আরিফুল লিখেছে, সে যেখানে আছে সেখানে যেন ভালো থাকে—এ জন্য সবাইকে দোয়া করতে। পাশাপাশি তাকে খুঁজে কোনো লাভ হবে না বলেও উল্লেখ করেছে সে।
চিরকুটে নিজের জিনিসপত্রের যত্ন নেওয়ার কথা জানিয়ে মাকে তার ঘর পরিষ্কার রাখার অনুরোধও করেছে আরিফুল। মায়ের ভালো ছেলে হয়ে থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে—এমন আক্ষেপও উঠে এসেছে লেখায়।
শেষদিকে পরিবারের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে ‘Please everybody forgive me from your heart. Good bye.’ লিখে ‘ইসমাইল’ নামে স্বাক্ষর করেছে সে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আরিফুলের আরেক নাম ইসমাইল।
আরিফুলের বাবা মো. সামছুল ইসলাম বলেন, ১৪ দিন আগে তার ছেলে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি ছেলেকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম জানান, আরিফুল অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরাও উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত হয়েছেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন জানান, আরিফুলের পরিবারে তার সৎমা রয়েছেন। পারিবারিক কোনো ধরনের নিগ্রহ বা বঞ্চনার কারণে কিশোরটি বাড়ি ছেড়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিখোঁজ আরিফুলের সন্ধান পেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।



