tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়রুমিন ফারহানা গালি না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না: জামায়াত আমির

রুমিন ফারহানা গালি না দোয়া দিলেন, কিছুই বুঝলাম না: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের হট্টগোল ও বাধার মুখে পড়েন তিনি। এতে তার বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না।

এ ঘটনায় রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সুযোগ নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে রুমিন ফারহানার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়েছে কি না।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে একটি বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হট্টগোলের কারণে একপর্যায়ে তার বক্তব্য প্রায় অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকারকে কয়েকবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।

বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আবার সারের সংকট হবে না; যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার কারখানায় গিয়ে সেটা লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না।’

দেশে বর্তমানে ছয় লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া।’

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হট্টগোল শুরু করলে তার বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম, তখন তারাও হট্টগোল করতো।’ বর্তমান পরিস্থিতিতে আচরণ আরও খারাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সুযোগ নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নেন।

ডেপুটি স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য তিনি দাঁড়িয়েছেন, তার কথা বলতে সুযোগ দিয়েছেন। হতে পারে তার কথা সব সঙ্গত নয়। আবার হতে পারে যে, তার কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কিছুই শুনতে পারলাম না। উনি কী বললেন সব তো হারিয়ে গেল। এখন তার কথাগুলো শোনা যেমন দায়িত্ব আমাদের আছে, বলারও অধিকার তার আছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি (রুমিন ফারহানা) যদি আনপার্লামেন্টারি কোনো কথা বলে থাকেন, সেটা আপনার (ডেপুটি স্পিকার) জায়গা থেকে রুলিং আসতে পারে। আবার এসব কথার জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী যখন দাঁড়াবেন, তিনি যদি প্রয়োজন মনে করেন তিনি দিতেই পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তো গতদিনও এরকম একটা সিচুয়েশনের মুখোমুখি আমরা হয়েছিলাম। তখন কিন্তু এই চেয়ার বড় কঠিন চেয়ার ছিল আমাদের জন্য।’

রুমিন ফারহানার বক্তব্য শুনতে না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকে উনি কী বললেন আমরা তো একেবারেই বুঝতে পারলাম না। উনি কি গালি দিলেন, না দোয়া দিলেন—কিছুই বুঝলাম না।’

এ অবস্থায় রুমিন ফারহানা আদৌ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন কি না এবং একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এর প্রতিকারটা কী হবে? রেকর্ড হবে কীভাবে? আমরাই তো শুনি নাই। রেকর্ডই তো হয় নাই। এজন্য এ বিষয়টা স্পষ্ট করা জরুরি বলে আমি মনে করি।’