ডায়াবেটিস শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই মনে করেন, মিষ্টি স্বাদের কারণে সব ধরনের ফলই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ফল পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে কোন ফল কতটা পরিমাণে এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলের সঙ্গে প্রোটিন, ফাইবার কিংবা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার থাকলে হজম ও শরীরে শর্করা শোষণের গতি কিছুটা ধীর হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া আলাদা হওয়ায় নিজের গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।
কলা
পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ থাকে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে একসঙ্গে বেশি কলা না খেয়ে সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। কলার সঙ্গে দারচিনি খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ফলে দারচিনির ওপর নির্ভর না করে মূলত পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
আম
মিষ্টি স্বাদের কারণে আমকে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিষিদ্ধ ফল হিসেবে অনেকে মনে করেন। তবে পরিমিত পরিমাণে আম খাওয়া যেতে পারে। আমের সঙ্গে কুমড়োর বীজের মতো খাবার রাখলে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ হয়, যা কিছুটা বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তরমুজ
তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি হলেও এতে প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে। ফলে ডায়াবেটিস থাকলে একবারে বড় পরিমাণ তরমুজ খাওয়ার বদলে অল্প পরিমাণ নেওয়া ভালো। এর সঙ্গে কিছু বাদাম বা বীজ খেলে খাদ্যতালিকায় ফাইবার, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত হয়।
সবেদা
স্বাভাবিকভাবেই মিষ্টি ফল হওয়ায় সবেদা খাওয়ার সময় পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার। অল্প পরিমাণ সবেদার সঙ্গে কয়েকটি আখরোট খাওয়া যেতে পারে। এতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কিছু প্রোটিন যোগ হবে এবং দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি অনুভূত হতে পারে।
খেজুর
খেজুরে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই ডায়াবেটিস থাকলে একসঙ্গে কয়েকটি বা বেশি খেজুর খাওয়ার বদলে অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। কাঠবাদামের সঙ্গে খেলে খাবারে ফ্যাট ও প্রোটিন যোগ হয় এবং ক্ষুধাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।
ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে মূল কথা
ডায়াবেটিসে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ফলটি মিষ্টি কি না, সেটি বিবেচনা করলেই হবে না। পরিমাণ, মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ এবং ব্যক্তির শরীরে ওই খাবারের প্রভাব—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ফল খাওয়ার পর নিজের রক্তে শর্করার মাত্রায় কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা উপকারী। একই সঙ্গে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক খাদ্যতালিকা তৈরি করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।



