সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী আজ শুক্রবার। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় দিনটি পালন করবে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা, কীর্তন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাতে নিশীথকালে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ ধরাধামে আবির্ভূত হন। অত্যাচারী ও দুর্জনের বিরুদ্ধে সাধুজনের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমনের উদ্দেশ্যে তিনি কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন। সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের বার্তার জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ বিশেষভাবে পূজনীয়।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এক বাণীতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুভ জন্মাষ্টমী বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বিশেষ দিন। এ শুভ দিনে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীকৃষ্ণের বাণী ও শিক্ষা সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে উদ্বুদ্ধ একটি জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সম্প্রীতির পরিবেশ কেউ যেন বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান।’ তিনি বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।
তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, সবাইকে নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়—সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে, শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীতে আজ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শোভাযাত্রাটি শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যান চলাচলে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শোভাযাত্রার নির্ধারিত রুট এড়িয়ে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



