tanaka

আমাদের নজর এড়িয়ে ইরানিরা বাথরুমেও যেতে পারে না: ট্রাম্প

আমাদের নজর এড়িয়ে ইরানিরা বাথরুমেও যেতে পারে না: ট্রাম্প

আজ শুভ জন্মাষ্টমী

প্রচ্ছদরাজনীতিলংমার্চে অংশ নেবে এক হাজার গাড়ি: এনসিপি

লংমার্চে অংশ নেবে এক হাজার গাড়ি: এনসিপি

ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। আগামীকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বৃহস্পতিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার গোলাপ শাহ মাজার মসজিদ থেকে গুলিস্তান এলাকা পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়। একইভাবে কাওরান বাজার, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকাতেও প্রচার চালানো হয়।

লংমার্চে অংশ নেওয়া নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে প্রায় এক হাজারে নামানো হয়েছে। আগে পাঁচ থেকে ছয় হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করার পরিকল্পনা ছিল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে প্রায় এক হাজার গাড়ি থাকবে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে গাড়িগুলো একটি নির্দিষ্ট লাইনে চলবে। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচলে যাতে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, শনিবার সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী কর্মসূচির পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে। সকাল ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লায়, বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর মহিপালে এবং বিকেল ৫টার মধ্যে মীরসরাইয়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। রাত ৯টার দিকে গাড়িবহর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাস সংকটে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আখতার হোসেন। তার অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও রাহাজানির ঘটনা বেড়েছে। হামলা বা বাধা এলেও কর্মসূচি ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লংমার্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। লংমার্চ সফল করতে চট্টগ্রামেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।