দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ডিম, আটা, ময়দা ও চিনির দাম বাড়তি থাকলেও সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে মাছ ও মাংসের দাম এখনো চড়া রয়েছে। নতুন দরের সয়াবিন তেল বাজারে আসার আগেই পুরোনো তেল বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা, মহাখালী ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
গত বুধবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজারে নতুন দামের সয়াবিন তেল পৌঁছানোর আগেই কিছু দোকানে পুরোনো বোতল নতুন দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসসংকটের কারণে বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে আটা, ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের সরবরাহে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম এখনো ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ডিমের দাম এ পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
প্যাকেটজাত আটার দামও বেড়েছে। বর্তমানে দুই কেজির প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে একই পরিমাণ আটা ১২০ টাকায় পাওয়া যেত। খোলা আটার দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল ৪৫ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আটার দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের বিক্রেতা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আড়তদাররা ডিমের দাম কমাচ্ছে না। ফলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি না। আটা ও চিনির দামও বাড়তি। কম্পানিগুলো দুই কেজির প্যাকেট আটার দাম বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করেছে। এর প্রভাবে খোলা আটার দামও কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
চিনির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাস খানেক আগে একই চিনি ১১০ টাকায় পাওয়া যেত।
তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে বাজারে পটোল ও ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, বরবটি ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কচুর লতি ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
পেঁয়াজ ও আলুর দামে অবশ্য তেমন পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাংসের বাজারে স্বস্তি নেই। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি জাতভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিম, আটা, চিনি ও মাংসের বাড়তি দামে এখনো চাপের মধ্যে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।



