ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন এই পদক্ষেপকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদ ও সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আরাগচি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন অন্য দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বাধ্য করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
আরাগচির ভাষ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বৈধ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত করা। এর মাধ্যমে দেশটির আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু সরকারের ওপর সীমাবদ্ধ থাকছে না; সাধারণ মানুষও এর কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য জরুরি পণ্য সংগ্রহে সংকট তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ধরনের পরিস্থিতি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের পাশাপাশি খাদ্য এবং পর্যাপ্ত জীবনযাপনের অধিকারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন আরাগচি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সদস্য দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং তৃতীয় দেশগুলোর ওপর আরোপ করা চাপমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
একই সঙ্গে এসব মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং তা বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আরাগচি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের বৈধ অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগের নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।



