tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদটপ নিউজসহসাই থামছে না ভারী বর্ষণ, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

সহসাই থামছে না ভারী বর্ষণ, বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

দেশজুড়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী তিন দিন বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি ও নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কাও বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে উত্তরপশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমুদ্র ও নদীবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পৃথক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের প্রায় সব নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তিন দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। এ সময়ও তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

পূর্বাভাসের শেষ ২৪ ঘণ্টায়ও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগে অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় ঢাকার বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ, যা বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়। আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৮ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে নৌপথের যাত্রী, জেলে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।