বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক নাম ও তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে রাখা ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি বগুড়ার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসককে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ করে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করতে বলা হয়েছে। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসন নতুন নাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন জেলা প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়। এ সময় শিবগঞ্জে ‘মীরবাড়ী’ এবং মোকামতলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পারিবারিক পরিচয় ও তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসে এবং জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রীকে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়।
তবে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলেও ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নের নাম নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজির নামের সঙ্গে মিল থাকা এ ইউনিয়নের নামও পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
এদিকে ইউনিয়নের নামকরণ বিতর্কের মধ্যেই ৫৩ বছরের পুরোনো শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রীর নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে গত ১ জুন একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আর কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয়।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেই প্রতিমন্ত্রী নিজের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষা সচিবের কাছে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন।



