গভীর রাত। সীমান্তের ওপারে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে অন্ধকার। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ দূরে ভেসে আসে মানুষের চিৎকার, কান্না কিংবা অস্বাভাবিক কোলাহল। ঘুম ভেঙে যায় সীমান্তের মানুষের। জানালার ফাঁক দিয়ে তারা তাকিয়ে থাকে সীমান্তের দিকে। তাদের আশঙ্কা, আবারও কি শুরু হলো ‘পুশ-ইন’?
ময়মনসিংহ ও শেরপুর সীমান্তজুড়ে এমন উদ্বেগ এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঘন জঙ্গল, ছড়া, কৃষিজমি ও বনাঞ্চল ব্যবহার করে কথিত বাংলাদেশি নাগরিক, রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।বিজিবি সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) দায়িত্বাধীন বিভিন্ন সীমান্তের নাকুগাঁও, ডালু, গোবিন্দপুর-কড়ইতলী ও সূর্যপুর-মুন্সিপাড়া পয়েন্টে একাধিক পুশ-ইন ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ মে নাকুগাঁও, ২৪ মে হালুয়াঘাটের কড়ইতলী, ৪ জুন ঝিনাইগাতীর ডালু ও ৮ জুন ধোবাউড়া সীমান্তের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনায় বিজিবির টহল ও জিরো লাইনে কঠোর অবস্থানের কারণে অধিকাংশ চেষ্টা সীমান্তের ওপারেই প্রতিহত হয় এবং অনুপ্রবেশকারীরা ফিরে যেতে বাধ্য হয়।ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আটক কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত কিছু রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।



