tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআদালতগুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দেওয়ায় ৫ চিকিৎসককে বদলি: আদালতে সাক্ষ্য

গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দেওয়ায় ৫ চিকিৎসককে বদলি: আদালতে সাক্ষ্য

গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়ার কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পাঁচ চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছিল—এমনটি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার ২৭তম সাক্ষী, ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ।

তিনি বলেন, “২৫ জুলাই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এমন একটি ঘৃণ্য কাজ করেছিল। শুধুমাত্র আহতদের চিকিৎসা দেওয়ার দায়ে পাঁচজন চিকিৎসককে বদলি করা হয়।”

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে চলমান জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি এসব কথা বলেন। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

ডা. মোস্তাক আরও বলেন, “সাধারণত বুকে গুলি লাগলে তা পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের গুলিবিদ্ধ রোগীদের অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গুলি মাথায় ঢুকে পেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে বা বুক দিয়ে ঢুকে সমান্তরালভাবে না গিয়ে পেট দিয়ে বেরিয়েছে। এসব থেকে ধারণা করি, তাদের ওপর ওপর থেকে—হয়তো হেলিকপ্টার বা উঁচু ভবন থেকে—গুলি চালানো হয়েছে।”

জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “স্বাচিপের কিছু চিকিৎসক আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা না দিতে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করত। তারা বলত, ‘এরা সন্ত্রাসী, তাদের চিকিৎসা করা যাবে না।’ এমনকি আন্দোলনকারীদের চিকিৎসায় বাধা দিতে গিয়ে ২৫ জুলাই পাঁচ চিকিৎসককে ঢামেক থেকে বদলি করা হয়।”

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ডা. মোস্তাক অভিযোগ করেন, “গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢামেকে এলে শহীদুল্লাহ হলের সামনে ছাত্রলীগের কিছু সদস্য তাদের পরিচয় যাচাই করত। তারা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করত, রোগীরা আন্দোলনকারী কি না, এবং সেই ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে বাধা দিত।”

উল্লেখ্য, এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর আগে দুইজন সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন। গত ১ জুন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গৃহীত হয় এবং ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেয়।