tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশপাউবোর জমি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা: সাবেক ডিসি এমদাদুল ও মোমেনের সংশ্লিষ্টতা

পাউবোর জমি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা: সাবেক ডিসি এমদাদুল ও মোমেনের সংশ্লিষ্টতা

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এবং বর্তমানে ওএসডি হওয়া সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি নিয়ে গোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে সন্তুষ্ট করতে সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রায় ৮ একর জমিকে খাস খতিয়ানভুক্ত করার উদ্যোগ নেন।

জমির পটভূমি ও মূল্য

সিলেট শহরের আম্বরখানা মৌজার ‘কালামাঠ’ নামে পরিচিত উক্ত জমি ১৯৬৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে (এলএ কেস নং: ১০/৬৩-৬৪)। বর্তমানে এ জমির বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। পাউবো দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মালিকানা নিশ্চিত করে।

অভিযোগের বিবরণ

সূত্র মতে, সাবেক ডিসি কাজী এমদাদুল ইসলাম উক্ত জমিকে খাস খতিয়ানভুক্ত করে কিছু প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার নামে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পাউবোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে বারবার রিজিউম কার্যক্রম বন্ধের অনুরোধ জানালেও তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যান। বিষয়টি উচ্চ আদালতের একাধিক রায়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অগ্রাহ্য করা হয়।

নথিপত্রে যেভাবে বিষয়টি উঠে আসে

২০২3 সালের ৩ নভেম্বর পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এসএম অজিয়র রহমান সচিব বরাবর এক পত্রে বিষয়টি তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, জেলা প্রশাসক পাউবোকে না জানিয়ে ৮ একর জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি এলএ রিজিউম মামলার কার্যক্রম (মামলা নং ০২/২০১৯) গ্রহণ করেন।

উচ্চ আদালতের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর রিভিউ পিটিশন খারিজ করে জানায়, অধিগ্রহণকৃত জমি অব্যবহৃত থাকলেও তা অবমুক্ত করার সুযোগ নেই।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মতামত

পাউবো জানিয়েছে, উক্ত জমিতে তাদের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, হাওর গবেষণা ইনস্টিটিউট ও খেলার মাঠ।

পাউবোর মহাপরিচালক এনায়েত উল্লাহ বলেন, “এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা। অধিগ্রহণকৃত জমিকে অপ্রয়োজনীয় বলা এবং খাস করার প্রক্রিয়া শুরু করা একজন সরকারি কর্মকর্তার জন্য অনুচিত। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।”

পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া

সাবেক ডিসি কাজী এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি ওএসডি হওয়ার পর থেকে জনসম্মুখে দেখা দেননি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত।

সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বলেন, “পাউবোর অধিগ্রহণকৃত জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করার বিষয়ে আমার জানা নেই। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলব।”

মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

বিদায়ি সচিব নাজমুল আহসান বলেন, “সরকারি জমি কেউ অবৈধভাবে দখল করতে পারবে না। সারা দেশে অবৈধ দখল উচ্ছেদের কাজ চলছে। সিলেটের এই জমির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।”সিলেট শহরের মূল্যবান জমি ঘিরে সাবেক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতায় দখলের চেষ্টা এবং গোপন কার্যক্রম নিয়ে এখনো তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।