সকাল ৯টা ৪১ মিনিট। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার থেকে ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন অফিসগামী সাইফুল ইসলাম। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ভেবেছিলেন, যাত্রাটা হয়তো কিছুটা স্বস্তির হবে। কিন্তু কিছু দূর যেতেই তার সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়ে। ভাড়া বাড়ার ঘোষণা এলেও সেবার মান যে আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে, তা পুরো যাত্রাপথেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
৯টা ৪৮ মিনিটে বাসটি নর্থ সাউথ রোডের সিদ্দিক বাজার অতিক্রম করে। কিছুক্ষণ পর ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড ও গুলিস্তান পেরিয়ে যায় মাত্র ৫ মিনিটে। চলতি পথে যাত্রী তুলতে তুলতে বাসটি এগিয়ে চলে। ১০টা ৫ মিনিটে মগবাজার উড়ালসড়কে ওঠে। প্রতিবেদকের গন্তব্য ছিল রায়সাহেব বাজার থেকে বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে বাসে উঠে বাড্ডা লিংক রোডে বড় যানজট ছাড়াই পৌঁছান ১০টা ২২ মিনিটে। মোট ৪১ মিনিটের এই যাত্রায় উঠে আসে নগরবাসীর প্রতিদিনের ভোগান্তির চিত্র। বাসে উঠেই চোখে পড়ে নানামুখী সমস্যা। ফ্যান অচল, সিটের কাভার ময়লা, ভেতরের পরিবেশ অপরিষ্কার। জানালায় কোনো পর্দা নেই, ফলে রোদের কারণে যাত্রীদের বসতে সমস্যা হয়। অনেক সময় সিট খালি থাকলেও রোদে বসতে না চাওয়ায় তা ফাঁকাই পড়ে থাকে।
অতিরিক্ত যাত্রী তোলা যেন নিয়মিত ঘটনা। বাসে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নেওয়ায় গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেককে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অন্য যাত্রীরা সেই আসন দখল করে রাখেন। রামপুরাগামী সেই সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিদিন এই রুটে চলাচল করি। প্রায়ই ভাড়া বাড়ার ঘোষণা আসে, কিন্তু বাসের ভেতরের অবস্থা আগের মতোই রয়ে যায়। ফ্যান চলে না, গরমে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। সিটগুলো নোংরা থাকে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। এই অবস্থায় বাড়তি ভাড়া নেওয়াটা যাত্রীদের সঙ্গে অন্যায় মনে হয়।’



