tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিক‘সুনিশ্চিত ব্যর্থতা’ জেনেই লেবাননে বেসামরিকদের ওপর হামলা ইসরাইলের

‘সুনিশ্চিত ব্যর্থতা’ জেনেই লেবাননে বেসামরিকদের ওপর হামলা ইসরাইলের

লেবাননে কাঙ্ক্ষিত সামরিক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ইসরাইল এখন বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক হামলার পথ বেছে নিয়েছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৮ এপ্রিল মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলি যুদ্ধবিমান লেবাননে নজিরবিহীন হামলা চালায়। মাত্র ১০ মিনিটে প্রায় ১০০টি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসরেদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী, এতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

রাজধানী বৈরুতের মিশ্র জনগোষ্ঠীর এলাকা এবং সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে ৬ এপ্রিল বৈরুতের উপকণ্ঠ আইন সাদেহতে খ্রিস্টান লেবানিজ ফোর্সেসের শীর্ষ নেতা পিয়েরে মুয়াওয়াদ ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন লেবানিজ গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করাই ইসরাইলের অন্যতম কৌশল।

তবে এই সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের যুদ্ধে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হলেও, সংগঠনটি এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে ফিরে এসেছে।

পূর্ববর্তী সংঘাতে হিজবুল্লাহর প্রায় চার হাজার যোদ্ধা নিহত হন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ হারিয়ে যায়। ২৭ নভেম্বর ২০২৪-এর যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ ১৫ মাস তারা নীরব ছিল। এই সময়ে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইল প্রায় ১০ হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এবং হিজবুল্লাহর আরও প্রায় ৪০০ সদস্য নিহত হন। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন সংগঠনটি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

কিন্তু ২ মার্চ হিজবুল্লাহ লেবানন ফ্রন্ট পুনরায় সক্রিয় করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অবসরপ্রাপ্ত লেবানিজ জেনারেল এলিয়াস ফারহাত বলেন, হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। একইসঙ্গে ইসরাইলি উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল রাফি মিলোও এই পুনর্গঠনকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলে স্বীকার করেছেন।

২ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে পাঁচ হাজারের বেশি রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। শুধু ২৬ মার্চই ৬০০টির বেশি প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০০টি পর্যন্ত হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

দক্ষিণ লেবানন ফ্রন্টেও ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি কম নয়। এখন পর্যন্ত ১১ জন ইসরাইলি সেনা নিহত এবং ৩০০-র বেশি আহত হয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি, তারা ১৩৬টি মার্কাভা ট্যাংক ও ২৬টি সামরিক যান ধ্বংস করেছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

এত বড় আঘাতের পরও কীভাবে হিজবুল্লাহ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল? বিশেষজ্ঞদের মতে, সংগঠনটির তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্ব—যাদের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে—এখন সামনে এসেছে। তারা প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ, উচ্চশিক্ষিত এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী।

ইসরাইলি গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে হিজবুল্লাহ এখন পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে গেছে—হাতে লেখা বার্তা ও মানব বার্তাবাহক ব্যবহার করছে। ফলে ব্যাপক বিমান হামলার মধ্যেও নতুন নেতৃত্বকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

হিজবুল্লাহ বিশেষজ্ঞ আমাল সাদ এই কৌশলকে ‘মুগনিয়েহ মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন—যেখানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গেরিলা কৌশলে দ্রুত ও আকস্মিক হামলা চালানো হয়। ২০০৬ সালের যুদ্ধেও এই কৌশলের ব্যবহার দেখা গেছে।

অস্ত্রের ক্ষেত্রেও নতুন সক্ষমতার ইঙ্গিত মিলছে। ইরানি ‘আলমাস-২’ ও ‘আলমাস-৩’ ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। ১৮ মার্চ সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের আশকেলনে হামলার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ৬ এপ্রিল লেবাননের উপকূলে একটি ইসরাইলি নৌযানেও হামলার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা রয়েছে এবং আরও ৫০ হাজার রিজার্ভ সদস্য প্রস্তুত রয়েছে। গত ডিসেম্বরে সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছিল যে পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুত—যা এখন বাস্তব পরিস্থিতিতেই প্রতিফলিত হচ্ছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই