যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি রোববার জানান, মার্কিন এই অভিযান সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইসফাহান অঞ্চলে কয়েকটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে, যার ফলে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের এক পাইলটকে উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জুলফাগারি আরও জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের মধ্যাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করে ওই পাইলটকে উদ্ধার করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং অভিযানটি নস্যাৎ করে দেয়। ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স, পদাতিক বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যৌথ অভিযানে অনুপ্রবেশকারী মার্কিন বিমানগুলোকে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে, পৃথক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় অন্তত পাঁচজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূপাতিত একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুকে উদ্ধারের সময় এ হামলা চালানো হয়। কহগিলুয়েহ ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নরের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রদেশটির পাহাড়ি ‘ব্ল্যাক মাউন্টেন’ এলাকায় হামলায় ওই পাঁচজন নিহত হন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পাহাড়ি এলাকা থেকে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের এক ক্রুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, তবে তিনি গুরুতর আহত।
ট্রাম্প বলেন, অভিযানের সময় ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছিল এবং উদ্ধারকারী দলকে শনাক্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খুব কমই পরিচালিত হয়। মানবজীবন ও সামরিক সরঞ্জামের নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হওয়ায় এ ধরনের অভিযান সচরাচর দেখা যায় না।



