দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে সর্বত্র অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাম্পগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে হাতাহাতি, সংঘর্ষ ও মারামারি নিত্যদিনের ঘটনা। কোথাও কোথাও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়ার পর এই অরাজকতা আরও বাড়েছে, ফলে অনেকেই ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক এলাকায় সবখানেই তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি থাকলেও পাম্পগুলোতে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মজুতেরও সন্ধান পাচ্ছে।
মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে তেলের অভাবে ক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পাম্পগুলো তেল না থাকার অজুহাতে বন্ধ থাকছে, হঠাৎ করে বিক্রির খবর পেলে দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন। এতে বিশৃঙ্খলা, হামলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। জেলার অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন ও প্যাক্ট পয়েন্টে এখন তেল নিয়ে চরম হট্টগোল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রি এবং মজুতের অভিযোগও উঠেছে। উপজেলা প্রশাসন অভিযান ও জরিমানা চালাচ্ছে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিনটি বড় ডিপো রয়েছে — পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। প্রতিদিন ট্রেনের মাধ্যমে কয়েক লাখ লিটার তেল মজুত হলেও, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাতটি উপজেলায় নিয়মিত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। ডিপোর কর্মকর্তা দাবি করছেন, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সংকটের আশঙ্কা নেই।
বান্দরবান:
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট রয়েছে। হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পরিবহন স্থবির ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সদর ও লামা উপজেলায় সাতটি ফিলিং স্টেশন থাকলেও ছয়টি পাম্পে সীমিত বিক্রি চলছে।
রংপুর:
রংপুরে ডিপোগুলো গ্রাহকদের বেশি তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও গ্রাহকদের অতিরিক্ত সংগ্রহের কারণে পাম্পগুলো চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে ডিপোগুলো রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করছে।
লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরে মোট ১২টি পেট্রোল পাম্পের অধিকাংশে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ, যার ফলে মোটরসাইকেলচালক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে। প্রশাসন তৎপর থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সরবরাহ মিলছে না।
ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ জেলায় জেলা প্রশাসন অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ও ডিলার ছাড়া খোলা বাজারে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। তারপরও রাতের আঁধারে তেল সরিয়ে মজুত রাখার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসন ফুলপুরে মাটির নিচে ট্যাংক থেকে ২৩,০০০ লিটার তেল জব্দ করেছে। এ সুযোগে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, সিএনজি ও পিকভ্যানের ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় তেলের সংকট, অতিরিক্ত চাহিদা, অবৈধ মজুত ও নিরাপত্তা সমস্যা মিলিতভাবে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সরকারি তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠিন হচ্ছে।



