আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে রাজধানীর গুলশানে নতুন কার্যালয় স্থাপন করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকেলে এ কার্যালয়ে প্রথম সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসভবনে উঠবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওই বাসার পাশেই ভাড়া করা ‘ফিরোজা’ বাসায় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা কক্ষও প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুলশানে আরও একটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি নম্বর ভবনের নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতা কর্মসূচি ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এটি বিএনপির একটি নির্বাচনী কার্যালয়, যেখান থেকে নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরবেন—ইনশাআল্লাহ। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ, প্রত্যাশা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্রকামী সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মাহদী আমিন জানান, ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতা আজ থেকেই শুরু হয়েছে এবং ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। দেশ-বিদেশের যেকোনো শ্রেণি ও পেশার মানুষ এক মিনিটের রিল ভিডিওর মাধ্যমে তাদের ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। ভিডিও কনটেন্টে বক্তব্য, স্যাটায়ার, গান, সংলাপ, অ্যানিমেশন, ডকুমেন্টারি কিংবা ছবি ও শিল্পকর্মের সমন্বয় থাকতে পারে। এতে গঠনমূলক সমালোচনা, নতুন ধারণা কিংবা ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি তুলে ধরা যাবে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশ গড়ার মহাপরিকল্পনায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গণমানুষের ভাবনাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত করা। তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী নাগরিক—দেশে বা বিদেশে অবস্থানরত—সবার জন্য এই প্রতিযোগিতা উন্মুক্ত থাকবে।
এ কর্মসূচির বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মেধাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত শীর্ষ ১০ জন বিজয়ীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান মাহদী আমিন।
দীর্ঘ ১৮ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের মানুষ তাদের নেতার অপেক্ষায় রয়েছে। সেদিন দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান নিয়ে তাকে স্বাগত জানাবেন।
এর আগে সোমবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় ও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার জন্য আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি ভবনটি বিএনপি অফিস হিসেবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। চারতলা এই ভবনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। দোতলায় ব্রিফিং রুম এবং অন্যান্য তলায় বিভিন্ন বিভাগ ও গবেষণা সেলের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জিয়া উদ্দিন হায়দার, বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সাইমুম পারভেজ এবং মিডিয়া সেলের সদস্য শাইরুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।



