দীর্ঘ নির্বাসন জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে লন্ডনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের ঐতিহাসিক দ্য সিটি প্যাভিলিয়ন হলে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানকালে যুক্তরাজ্য বিএনপির সঙ্গে এটিই হবে তার সর্বশেষ ও বিদায়ী সভা। সভায় তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপি ও প্রবাসী কমিউনিটির উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে আসেন তারেক রহমান। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ফলে প্রায় ১৭ বছর তাকে লন্ডনেই নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমান যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবরে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি আবেগাপ্লুতও। দেশের স্বার্থে প্রিয় নেতাকে বিদায় জানাতে তারা প্রস্তুত।
গত ১৭ বছর লন্ডন থেকেই দল পরিচালনা করেছেন তারেক রহমান এবং যুক্তরাজ্যে নিয়মিতভাবে দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধু বিএনপির জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতেও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। তাদের মতে, দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর এই প্রত্যাবর্তন নতুন উদ্যম ও আশার বার্তা বহন করছে। তারেক রহমান দেশে ফিরলে গণতন্ত্রের আন্দোলন আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
লন্ডনে অবস্থানকালে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। তাই ঐতিহাসিক এই বিদায় জানাতে প্রস্তুত সংগঠনটি।



