২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।
সাড়ে তিন দশক পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিরোধী জোটের প্রার্থী ও এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ।
ভোটগ্রহণের শুরুতেই ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং অন্যান্য সংসদ সদস্য ভোট দেন।
টানা তিন ঘণ্টা ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টায় ভোট নেওয়া শেষ হয়। পরে প্রায় ২০ মিনিট ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩টি বৈধ ভোট পড়ে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। অব্যবহৃত ছিল ছয়টি ব্যালট। এ ছাড়া বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চারটি ব্যালট প্রতিস্থাপন করা হয়।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। ভোটের ফলেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
ফলাফল ঘোষণার পর সিইসি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদ সদস্যরা তাকে অভিনন্দন জানান।
এরপর রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সই করা সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।



