যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরাপত্তা যাচাই ও তদন্ত চলমান থাকলেও ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। শুরুতে অল্পসংখ্যক গ্রাহকের কাছে গাড়িটি সরবরাহ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে বিক্রির পরিমাণ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের আয়বিষয়ক সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রকৌশল) লার্স মোরাভি।
তিনি জানান, বর্তমানে উৎপাদিত সাইবারক্যাবগুলো প্রথমে টেসলার নিজস্ব রোবোট্যাক্সি বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। এই বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক ব্যক্তিগত ক্রেতার কাছে গাড়ি সরবরাহ শুরু হবে। চালকবিহীন গাড়ি সরবরাহ, মালিকানা ব্যবস্থাপনা এবং বহর পরিচালনায় অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের পরিমাণও পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।
সোনালি রঙের দুই আসনের সাইবারক্যাব এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে এটি চালক ছাড়াই চলতে পারে। গাড়িটিতে স্টিয়ারিং হুইল কিংবা প্রচলিত গাড়ির মতো চালকের ব্যবহারের জন্য অন্যান্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা রাখা হয়নি।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই স্বল্প খরচে পরিচালিত রোবোট্যাক্সির বড় নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। এর আগে তাঁর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানাধীন টেসলা গাড়িগুলোকে চালকবিহীন ট্যাক্সিতে রূপান্তর করা। তবে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এখনো সেই উদ্যোগ ব্যাপক পরিসরে বাস্তবায়িত হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে চালকবিহীন প্রযুক্তির জন্য বিশেষভাবে তৈরি সাইবারক্যাব বাজারে আনার উদ্যোগকে টেসলার কৌশলে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে টেসলার বর্তমান উন্নত চালক-সহায়তা প্রযুক্তি ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (সুপারভাইজড)’ গাড়ি চালানোর অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। তবে এই ব্যবস্থায় চালককে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে হয় এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত থাকতে হয়। নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির সক্ষমতা বাড়ানো হলেও এটি এখনো সম্পূর্ণ চালকবিহীনভাবে গাড়ি চালানোর উপযোগী ব্যবস্থা নয়।
সম্মেলনে ইলন মাস্ক আরও জানান, চালকের তদারকি ছাড়াই পরিচালিত ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ প্রযুক্তি ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রাহকদের জন্য চালু করা হতে পারে।
সূত্র: সামা টিভি



