tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকদুবাইয়ের তুলনায় ভারতের অনেক শহরে সস্তা জ্বালানি, দামের ব্যবধানের কারণ কী?

দুবাইয়ের তুলনায় ভারতের অনেক শহরে সস্তা জ্বালানি, দামের ব্যবধানের কারণ কী?

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্বালানি বাজারে। অক্টোবরে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে এখন ইউএইর তুলনায় কম দামে জ্বালানি কিনতে পারছেন গ্রাহকেরা। তবে পেট্রলের ধরন ও শহরভেদে দামের এই ব্যবধান এক নয়।

একসময় কম দামের জ্বালানির জন্য পরিচিত ছিল ইউএই। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটিতে গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে, ভারতের কিছু শহরে পেট্রল ও ডিজেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় দুই দেশের মধ্যে মূল্যগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

২২ অক্টোবর ভারতের ১৪টি শহরে প্রতি লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে ১০১ দশমিক ৫৪ থেকে ১১৬ দশমিক ১৫ রুপিতে। এসব শহরের মধ্যে চণ্ডীগড়ে দাম সবচেয়ে কম, আর সবচেয়ে বেশি ছিল হায়দরাবাদে। ডিজেলের ক্ষেত্রে প্রতি লিটারের মূল্য ছিল ৮৯ দশমিক ৪৭ থেকে ১০৪ দশমিক ৪০ রুপি। এ জ্বালানির সর্বনিম্ন দাম ছিল চণ্ডীগড়ে এবং সর্বোচ্চ তিরুবনন্তপুরমে।

গালফ নিউজের তথ্য অনুসারে, অক্টোবরে ইউএইতে প্রতি লিটার ই-প্লাস ৯১ পেট্রলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪ দশমিক ২১ দিরহাম। স্পেশাল ৯৫-এর দাম ৪ দশমিক ২৮ দিরহাম, সুপার ৯৮-এর দাম ৪ দশমিক ৪০ দিরহাম এবং ডিজেলের দাম ৪ দশমিক ৮০ দিরহাম।

২২ অক্টোবরের বিনিময় হার অনুযায়ী, এক দিরহামের মূল্য ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ৬৯ রুপি। সেই হিসাবে ইউএইতে প্রতি লিটার ই-প্লাস ৯১ পেট্রলের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১০৮ দশমিক ১৭ রুপি। স্পেশাল ৯৫-এর দাম প্রায় ১০৯ দশমিক ৯৫ রুপি, সুপার ৯৮-এর দাম ১১৩ দশমিক ০৩ রুপি এবং ডিজেলের দাম প্রায় ১২৩ দশমিক ৩১ রুপি।

এই হিসাব অনুযায়ী, তুলনায় থাকা ভারতের সব শহরেই ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে ইউএইর চেয়ে কম দামে। পেট্রলের ক্ষেত্রে অবশ্য একই চিত্র দেখা যায় না। দিল্লি, নয়ডা, লখনৌ ও চণ্ডীগড়ের মতো শহরে পেট্রলের দাম ইউএইর স্পেশাল ৯৫ গ্রেডের তুলনায় কম। বিপরীতে মুম্বাই, কলকাতা ও হায়দরাবাদে পেট্রলের দাম এই গ্রেডের চেয়ে বেশি।

তবে দুই দেশের জ্বালানির গ্রেড ও মানদণ্ডে পার্থক্য থাকায় এ মূল্যতুলনাকে পুরোপুরি সমমানের জ্বালানির দাম হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এটি মূলত বিনিময় হার অনুযায়ী করা একটি আনুমানিক তুলনা।

ইউএইতে জ্বালানির দাম বাড়ার পেছনে কী রয়েছে?

আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইউএই প্রতি মাসে জ্বালানির মূল্য পর্যালোচনা করে। সেই ধারাবাহিকতায় অক্টোবরে দেশটিতে তিন ধরনের পেট্রলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপার ৯৮ পেট্রলের দাম সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটার ৩ দশমিক ৮০ দিরহাম থাকলেও অক্টোবরে তা বেড়ে ৪ দশমিক ৪০ দিরহাম হয়েছে। একই সময়ে স্পেশাল ৯৫-এর দাম ৩ দশমিক ৬৯ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২৮ দিরহাম এবং ই-প্লাস ৯১-এর দাম ৩ দশমিক ৬১ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ২১ দিরহামে পৌঁছেছে।

ডিজেলের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৪ দশমিক ৩০ দিরহাম, যা অক্টোবরে বেড়ে ৪ দশমিক ৮০ দিরহাম হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধির কারণে অপরিশোধিত তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। অক্টোবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের বেশি উঠে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিস্থিতি ইউএইতে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

নভেম্বরে জ্বালানির দাম বাড়ার সম্ভাবনা কতটা?

অক্টোবরের শেষ দিকে ইউএইর পরবর্তী মাসের জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের কথা রয়েছে। তবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নভেম্বরের জন্য নতুন দাম ঘোষণা করা হয়নি।

মাসের বাকি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে নভেম্বরে ইউএইর পেট্রল ও ডিজেলের দাম। বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশটির গ্রাহকদের জ্বালানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি