tanaka

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি ‘ডিসেম্বর’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে...
প্রচ্ছদটপ নিউজ১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করতে দেশব্যাপী মহাপরিকল্পনা

১০ লাখ মানুষের অন্ধত্ব দূর করতে দেশব্যাপী মহাপরিকল্পনা

দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব কমাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বের প্রথম গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ-এ আয়োজক দেশ অ্যান্টিগার সঙ্গে বাংলাদেশ যৌথভাবে কো-হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অন্ধত্ব প্রতিরোধবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস (IAPB)-এর প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানির অপারেশনের অভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা অন্ধত্বের শিকার হয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশনের একটি বড় কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে চলতি বাজেটে ছানি অপারেশনের পর ব্যবহৃত কৃত্রিম লেন্সের ওপর আরোপিত কর কমানো হয়েছে। এর ফলে অপারেশনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং দরিদ্র রোগীরা সহজে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

আসন্ন গ্লোবাল সামিট অন আই হেলথ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে এটিই হবে প্রথম বৈশ্বিক চক্ষু স্বাস্থ্য সম্মেলন। এতে বাংলাদেশ কো-হোস্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক থাকলেও একই সময়ে কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবে।

গ্রামীণ অঞ্চলের শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশু চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারে না, যা তাদের শিক্ষা ও বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আইএপিবিকে শিশুদের চোখ পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সংস্থাটি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, লেন্সের মূল্য হ্রাস, বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় দেশের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

এদিকে, আইএপিবির প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড বলেন, আগামী ২ নভেম্বর অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল সামিট বিশ্বনেতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে, যেখানে বিভিন্ন দেশ তাদের চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের অঙ্গীকার তুলে ধরবে।

তিনি বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জাতিসংঘে দৃষ্টিশক্তিবিষয়ক প্রথম ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপনকারী দেশও বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে দেশের ধারাবাহিক অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

পিটার হল্যান্ড আরও বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হিসেবে চক্ষু স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে অংশীদার হয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ছানি অপারেশনের মানোন্নয়ন, সাধারণ মানুষের কাছে চশমা পৌঁছে দেওয়া এবং অন্যান্য চক্ষু স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে কাজ করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন গ্লোবাল সামিটে বাংলাদেশের সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে।