গাজায় যুদ্ধ শেষের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় জিম্মি মুক্তি ও কয়েকটি শর্তে হামাসের আংশিক সম্মতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর ট্রাম্প ফোনে নেতানিয়াহুকে জানান, এটি একটি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’। কিন্তু নেতানিয়াহু জবাবে বলেন, ‘এটা উদযাপনের কিছু নয়, এর কোনো বাস্তব অর্থ নেই।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যে ট্রাম্প বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘আমি বুঝি না কেন তুমি সবসময় এত নেতিবাচক।’ এ সময় তিনি একটি অশালীন শব্দও ব্যবহার করেন। পরে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, ‘এটা একটা জয়—এটা গ্রহণ করো।’
এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বের আট দেশের নেতার সঙ্গে গাজা যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এক সপ্তাহ পর, ২৯ সেপ্টেম্বর, হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২০ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে, ৪ অক্টোবর, স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ওই প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানায়—তারা সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি, তবে ২০ দফা প্রস্তাবের অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
এরপর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ জানান, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল প্রথম ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত মানচিত্রে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাব্য সীমারেখাও দেখানো হয়।
ট্রাম্প বলেন, হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিলেই যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, “যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সব চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।”



