tanaka

তিনবেলা খাবার জুটত না, এখন শাহরুখ সেজে আয় ৫ লাখ রুপি!

একসময় সাইনবোর্ড আঁকাই ছিল জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন। অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানোও ছিল কঠিন। কিন্তু চেহারায় বলিউড তারকা শাহরুখ খানের সঙ্গে অদ্ভুত মিলই...
প্রচ্ছদজাতীয়হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বড় ৫ চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালি বন্ধ, বড় ৫ চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইরানের পাল্টা হামলার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল, যার প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পারে পাঁচটি বড় খাতে।

১. জ্বালানি সংকট

বাংলাদেশের গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে আসা এলএনজি জাহাজের প্রধান নৌপথ হরমুজ, যা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন কার্গো বিলম্বিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বেড়ে যেতে পারে।

শিল্পখাতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়বে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো উৎপাদন কমালে রপ্তানিনির্ভর শিল্পে বড় ধরনের ধাক্কা পড়তে পারে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানিকৃত তেলের লোডিং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২. কৃষি খাত

বর্তমানে বোরো ধান চাষের মৌসুম চলছে। সেচের জন্য প্রচুর ডিজেল ও বিদ্যুতের প্রয়োজন। ডিজেল বা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিজেল ও সার উভয়ের উপর চাপ পড়লে বোরো উৎপাদনে বড় ধাক্কা পড়তে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

৩. বাণিজ্য ও রপ্তানি খাত

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিপিং কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করছে, যেমন আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ১০–১৫ দিন বেড়ে গেছে। যুদ্ধঝুঁকির কারণে ‘ওয়ার রিস্ক সারচার্জ’ নামে অতিরিক্ত বিমা খরচ যুক্ত হয়েছে, যা কন্টেইনার প্রতি কয়েক হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় যোগ করছে।

৪. ভোক্তা বাজার

জ্বালানি ও শিপিং ব্যয়ের বৃদ্ধি ভোগ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যে দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে। তবে যতদিন যুদ্ধ স্থগিত থাকে, ততদিন অন্যান্য পণ্যে বড় কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

৫. রেমিট্যান্স ও অর্থনীতি

বিদেশি ক্রেতাদের ওপর বাড়তি পরিবহন খরচ চাপানো কঠিন হওয়ায় রপ্তানিনির্ভর খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা কমতে পারে। গ্যাস ও তেলের সংকট, শিপিং ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষিতে সেচ ব্যাহত হওয়া, ভোক্তা বাজারে অস্থিরতা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে অনিশ্চয়তা—মিলিয়ে বাংলাদেশে একটি ‘পারফেক্ট ইকোনমিক স্টর্ম’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংক্ষেপে: হরমুজ প্রণালির অচল অবস্থা বাংলাদেশের জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ও ভোক্তা খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে এই চাপ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।