tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা, সংসদে অর্থমন্ত্রী

দেশের জনগণের মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা ছাড়িয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।

রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ জানতে চান, বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত, ২০২৬ সালে এর পরিমাণ কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। ঋণের চাপ কমাতে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের পরিধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধি করে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়কে আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের চাহিদা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারি ঋণের সুদব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সীমা বা সিলিং অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ব্যয়ের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরকারের সামগ্রিক সুদব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ ঋণ পোর্টফোলিও গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ঋণগ্রহণ এড়াতে ‘অ্যানুয়াল বরোয়িং প্ল্যান’ প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি নগদ অর্থের প্রয়োজন, রাজস্ব ও ব্যয়ের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সূচি বিবেচনায় নিয়ে ‘ক্যাশ ফোরকাস্টিং’ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘পাবলিক মানি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৯’-এর বিধান অনুসরণের মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এসব সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।