tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির বর্তমান অবস্থা, রোগীর সংখ্যা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

হাসান শিপলু জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), রোভার স্কাউট ও রেডক্রিসেন্টের কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব সংগঠনের কর্মীদের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রীসহ অন্যান্য সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের শরীরে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতেই এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত নয়, এসব উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দেখতে চান তিনি।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নদী-খাল-ড্রেনের দূষণ রোধে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

এদিকে রাজধানীর চারপাশের নদী, খাল ও ড্রেনের দূষণ রোধ এবং বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন এবং ঢাকা শহরের চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ’ বিষয়ক এক পর্যালোচনা বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বৈঠকে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং এসব নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী এবং পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

নদী ও পরিবেশ রক্ষার এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।