tanaka

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৬০

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৬০

জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল

প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকউত্তাল দিল্লি রাহুলসহ বিরোধী এমপিরা আটক

উত্তাল দিল্লি রাহুলসহ বিরোধী এমপিরা আটক

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী সংসদ সদস্যকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দুই দিনের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বিরোধী আইনপ্রণেতাদের আটকের ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের।

ভোটার তালিকা সংশোধন ও হালনাগাদ নিয়ে বিতর্কের জেরে কয়েক দিন ধরে ভারতে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ করছে বিরোধী দল, তাদের ছাত্র সংগঠন এবং ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলন। গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরে মতবিরোধের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ তাদের কর্মসূচি ভেঙে দিয়ে সাময়িকভাবে আটক করে।

এর এক দিন পর বুধবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কংগ্রেস আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের বৈঠক শেষে আবারও বিক্ষোভে নামেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা। তারা অনুমোদিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, আগের দিন পুলিশ তাদের বিক্ষোভ করতে বাধা দিয়েছিল। এ কারণে এবার নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে গিয়ে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে বৈধ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মানেন না বলেও মন্তব্য করেন।

ভোট চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন।

যন্তর মন্তরের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বাসে ওঠেন রাহুল গান্ধী। বাসটির জানালায় টানানো পোস্টারে লেখা ছিল—‘ভোট চুরি নয়, গণতন্ত্র চুরি নয়’ এবং ‘নির্বাচন কমিশন, বিজেপি কমিশন নয়’। এর মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।

রাহুলের সঙ্গে কয়েক শ কংগ্রেস কর্মীও হেঁটে এগিয়ে যান। এ সময় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সড়কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বিক্ষোভকারীদের বহনকারী বাসকে বিকল্প পথে যেতে হয়।

একপর্যায়ে রাহুল গান্ধী বাস থেকে নেমে বিক্ষোভকারীদের ভিড়ে অবস্থান নেন। তাঁর বোন ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাসহ আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা সড়কে অবস্থান নেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে পৃথক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের এই আন্দোলন নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদের সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর কয়েক মাস আগেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিপিজের যুব আন্দোলনের পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মোদির শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি—উভয় পক্ষই ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।