সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সহায়তা চাইতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইরান ইস্যুতে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, বিদ্রোহীরা ‘খুবই খারাপ আচরণ করছে’।
সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সহায়তা চাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এরদোয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার কথা তিনি বিবেচনা করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, আমার মনে হয়, আমি যা বলব, তিনি তা-ই করবেন।’
সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে তুরস্ক সম্প্রতি রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই প্রতিশ্রুতি এসেছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই দেশটি সম্পর্কে একটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ধরন কিংবা এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় কী কী বিষয় উঠে এসেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় কতটা জোরদার হয়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে তুরস্ক সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।



