জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্রয়প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে জিটুজি প্রক্রিয়ায় আগে অনুমোদিত পরিমাণের বাইরে আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। আমদানির তালিকায় গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জন্য জিটুজি পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল আমদানির যে পরিমাণ আগে অনুমোদন করা হয়েছিল, তার অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত জ্বালানি তেল দেশে আনা হবে।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আরও একটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জিটুজি চুক্তির আওতায় চীনের ইউনিপেক, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি এবং চীনের পেট্রোচায়না থেকে এসব তেল আমদানি করা হবে।
এ জন্য মোট চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
এদিকে দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের বৈঠকে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১০ নভেম্বর একটি অতিরিক্ত এলএনজি কার্গো কেনার দরপ্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।



