দেশজুড়ে গ্যাস সংকট চরমে। এলপিজি সিলিন্ডার এখন প্রায় দ্বিগুণ দামেও মিলছে না। সরকার বলছে সংকট সাময়িক, মজুত পর্যাপ্ত। বেসরকারি কোম্পানিগুলো বলছে এলসি সংকটের কথা। আমদানিও হয়েছে কম। দাম বাড়ার জন্য আবার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। বাসাবাড়ির লাইনের গ্যাসের অবস্থাও নাজুক। গ্যাস সংকট নিয়ে ইকবাল হোসেনের তিন পর্বের ধারাবাহিকের আজ থাকছে তৃতীয় ও শেষটি।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশে বোতলজাত এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) নিয়ে চরম অরাজকতা চলছে। দ্বিগুণ টাকায়ও মিলছে না গ্যাস। পাইপলাইনে সরবরাহ করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসেও চলছে সংকট। বাসাবাড়িতে দিনের সিংহভাগ সময় গ্যাস থাকে না। পেট্রোবাংলা বলছে, ‘সরবরাহ লাইন অনেক দূরে হওয়ায় ঢাকার মতো শহরে চাপ কম, এজন্য গ্যাস মিলছে না।আমাদের দেশে গৃহস্থালি বাদেও শিল্প-কারখানা ও যানবাহনে ন্যাচারাল (প্রাকৃতিক) ও পেট্রোলিয়াম দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, চা-বাগান, হোটেল-রেস্তোঁরা ও গৃহস্থালিতে সরবরাহ করা হয়।
কিন্তু ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে আসায় সরবরাহ লাইনে চাপ তৈরি করছে। সরবরাহের বাড়তি চাপ সামলাতে বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এলএনজি (লিকুফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) আমদানি করে আসছে সরকার।
অন্যদিকে, গৃহস্থালিতে পাইপলাইনে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় ২০১৫ সালের পর থেকে হোটেল, রেস্তোঁরা ও বাসাবাড়িতে সিলিন্ডারে এলপিজি (লিকুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের পুরোটাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলেও এলপিজির ৯৮ শতাংশ রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে।
সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি সংকটের পাশাপাশি পাইপলাইনেও গ্যাসের চাপ কমেছে। এতে লাইনের গ্যাস ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ব্যবহারকারীদের চেয়ে ঢাকা ও আশপাশের গ্রাহকরা বেশি ভুগছেন। দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকে না। থাকলেও এত সামান্য থাকে যে রান্না করা কঠিন। প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্তি কমে আসার কারণে আমদানিকৃত এলএনজিনির্ভরতা বাড়ছে।
পেট্রোবাংলা বলছে, এলএনজি সরবরাহে দূরত্বের কারণে চাপের তারতম্যে রাজধানীসহ আশপাশের গ্রাহকরা চাপ কম পান। পাশাপাশি সার, বিদ্যুৎ, শিল্প ও বিদ্যমান গৃহস্থালি গ্রাহকদের গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এলএনজির নতুন আরেকটি এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গেসিফিকেশন ইউনিট) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



