রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এদিন বেলা ১১টায় শুরু হবে এই অধিবেশনের কার্যক্রম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই হবে প্রথম অধিবেশন।
আসন্ন এই অধিবেশন ঘিরে এরই মধ্যে সংসদ ভবন ঢেলে সাজানো হয়েছে। সংসদ ভবন মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় যৌথভাবে কাজ করেছে। এতে ব্যয় ছাড়িয়েছে প্রায় শতকোটি টাকা।৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সংসদের দিকে ছুটে যান। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে মিছিল করেন তারা। সেদিন জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন (মানিক মিয়া ও নাখাল পাড়া), পুরোনো এমপি হোস্টেল, মন্ত্রী হোস্টেল, সচিব হোস্টেল ও সংসদ ভবন আবাসিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
পরে সংসদ ভবনে ক্ষতিগ্রস্ত কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ইন্টারনেট সংযোগ, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, লাইন ও সেটগুলো জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হয়।নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, সংসদ হাউজের মিডিয়াসহ সব ইলেকট্রিক লাইন চেক করা হচ্ছে। এখান থেকে সব কিছু সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সংসদের ভেতরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের কক্ষ থাকে, এগুলো সাজানো হয়েছে। কিছু আসবাবপত্রও কেনা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি), টেলিফোনসহ সব সংযোগ চেক করা হচ্ছে। ১২ মার্চ অধিবেশন উপলক্ষে আমরা সবাই ব্যস্ত সময় পার করছি। ৫ আগস্টে সংসদে অনেক ভাঙচুর হয়েছিল। এজন্য মূলত একেবারেই নতুন রূপে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এমনকি হাউসে সংসদ সদস্যদের বসার অনেক চেয়ারও হারিয়ে গিয়েছিল। সেই চেয়ারগুলোও কেনা হয়েছে।দেশের প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবন। এই ভবনে সংসদ প্লেনারি হলসহ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ ভিআইপিদের অফিস রয়েছে। ভবনটি প্রায় ৪৫ বছর আগে নির্মিত। জাতীয় সংসদ ভবন এবং এর সঙ্গে সব স্থাপনা লুই আই কানের স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী গণপূর্ত অধিদপ্তর নির্মাণ করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনটির রক্ষণাবেক্ষণও করছে। সংস্কার করাসহ অনেক আসবাবপত্র ছিল। কিন্তু সব কিছুই নতুন করে সংস্কার ও সংযোজন করা হয়েছে।এর আগে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং ভিভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ছাদের ওপরে রেড ব্রিকের স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার ফলে ব্রিক সারফেস এবং ছাদের ওপরে সিরামিক ব্রিক জয়েন্টের কার্যকারিতা কমে গেছে। এগুলোও নতুন করে ঠিক করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস অফিসের চাহিদা মোতাবেক আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এগুলো সবই হারিয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক লোড বৃদ্ধির কারণে নরমাল এবং ইমারজেন্সি সাব-মেইন ক্যাবলের আধুনিকায়ন, জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অবস্থিত চারটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের জন্য এলটি সুইচ গিয়ার ও বাসবার ট্রাংকিং স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক কাজ, ভবনের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিভিন্ন সভা কক্ষের সৌন্দর্যবর্ধন এবং মন্ত্রী হোস্টেল ব্লকে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্টুডিও নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো কিছুই ছিল না। ৫ আগস্ট সবগুলোই নষ্ট হয়ে যায়। সব কিছু সংস্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮০০’র বেশি কম্পিউটার ও সিকিউরিটি ডিভাইজ কেনা হয়েছে। এগুলোও হারিয়ে গিয়েছিল।



