tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদটপ নিউজসংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে বিস্তারিত বললেন প্রধানমন্ত্রী

সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে বিস্তারিত বললেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ কর্মসূচি নিয়ে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও কৃষক-কেন্দ্রিক খাতে রূপান্তরের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, কৃষিখাতকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি আত্মনির্ভর, আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে প্রান্তিক কৃষক উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।

তিনি জানান, কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ ও যান্ত্রিক সুবিধা সহজে পৌঁছে দিতে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এ জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের দোরগোড়ায় স্বল্পমূল্যে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু-সহনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেন্সর প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও ড্রোন ব্যবহারের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বহুমুখী পরিকল্পনা

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, পানি সম্পদ খাতে পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমির লবণাক্ততা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম ধাপ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাস, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা কমানো এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত ০.৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, দেশব্যাপী বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান, উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমাতে টেকসই বেড়িবাঁধ, আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।