সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি, আর সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পাহাড়ে যারা বসবাস করেন, তারা পাহাড়ি বা আদিবাসী। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং মুসলমান—আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম পালন করি। কিন্তু আমাদের সবার পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ প্রথম’। তাই ‘সংখ্যালঘু’ বলতে কোনো ধারা, কথা বা শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করা উচিত নয়। এতে জাতিই খাটো হয়। দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আহ্বান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টি করেছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মাধ্যমে আমরা দেশ পরিচালনা করছি এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছি।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাস হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি আমরা শপথ নিয়েছি। ফলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সমাজের সব সমস্যা সমাধান, উন্নত জীবন নিশ্চিত, সব ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের অবসান কিংবা পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, তবে আমাদের উদ্যোগ ও লক্ষ্য মহৎ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই মিলে সমাজকে উন্নত জীবনের দিকে এগিয়ে নিতে, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছি।
জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে এ্যানি চৌধুরী বলেন, কংসের কারাগার ছিল অত্যাচারের প্রতীক। সেই কারাগারেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। সমাজের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার কল্যাণের বার্তা সামনে রেখেই দিনটি পালিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য জন্মাষ্টমী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, বাফুফের সহসভাপতি



